বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। দল দুটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান শক্তির গভীরতা বিবেচনায় এই মেগা ফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। তবে শিরোপা নির্ধারণী এই মহারণের আগে সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান আলবিসেলেস্তেদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক বার্তা দিচ্ছে না। ২০০০ সালের পর দুই দলের মধ্যকার লড়াইয়ের হিসাব বলছে-আর্জেন্টিনা ১-৩ স্পেন।
দুই দলের ফুটবলীয় দ্বৈরথে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেবার মাদ্রিদের ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসিকে ছাড়া মাঠে নামা আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল স্পেন। এটি এখন পর্যন্ত দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে যেমন সবচেয়ে বড় জয়, ঠিক তেমনি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক পরাজয়। সে ম্যাচে স্পেনের হয়ে মিডফিল্ডার ইসকো দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
বিংশ শতাব্দীর পর ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর মুরসিয়ায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। এর ঠিক তিন বছর পর, অর্থাৎ ২০০৯ সালের নভেম্বরে মাদ্রিদের মাটিতেও একই স্কোরলাইনে (২-১) জয় পায় স্প্যানিশরা। তবে ২০১০ সালে স্পেনের এই টানা জয়ের অহংকার চূর্ণ করে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তৎকালীন সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শক্ত জবাব দেয় আলবিসেলেস্তেরা। ২০০০ সালের পর স্পেনের বিপক্ষে এটিই আর্জেন্টিনার একমাত্র জয়।
অবশ্য ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, অতীতের পরিসংখ্যান দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো বড় মঞ্চের ভাগ্য কখনোই নির্ধারণ করা যায় না। বিশেষ করে বিশ্বমঞ্চে এই দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাস একেবারেই ভিন্ন। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে দল দুটি মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ছয় দশক পর এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামছে। একদিকে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চের অপরাজেয় ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা।

