দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, “সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে। কোনো ভদ্রলোক এই দলটির সাথে যুক্ত হতে পারে না।” আজ শনিবার দুপুরে নিজ জেলা সিরাজগঞ্জের মিরপুরে নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বর্তমান প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সরকারে থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ হঠাৎ করে অনেক বড় কিছু হয়ে গেছে। ক্ষমতার দম্ভ না দেখিয়ে সবাইকে দেশের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।
সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগ এ দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। দলটি শুধু বিগত ১৭ বছর নয়, বরং তার জন্মলগ্ন থেকেই নানাভাবে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে গেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে দেশের বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে কাউকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়নি এবং ‘দিনে ভোট রাতে গণনা’র মতো কোনো নজিরবিহীন কারচুপির ঘটনা ঘটেনি। সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমি প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলাম-হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন আমি জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরব না; কেবল আমার লাশ ফিরবে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ ইচ্ছায় আজ সেই স্বৈরাচারী শাসকই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, আর আমি সগৌরবে স্বাধীন দেশে ফিরে এসেছি।”
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

