মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সংঘাতের রেশ ধরে এবার কুয়েতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত তেল স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, আজ শনিবার ভোরে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় দেশটির তেল খাতের একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত’ স্থাপনা। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।
কেপিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো তেল স্থাপনা ও এর সংলগ্ন এলাকা খালি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজ চলছে। তবে ঠিক কোন তেল স্থাপনায় এই হামলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কত কিংবা বৈশ্বিক উৎপাদন কার্যক্রমে কোনো বড় প্রভাব পড়েছে কি না, এসব বিষয়ে কৌশলগত কারণে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কুয়েত কর্তৃপক্ষ।
অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে কুয়েতের মতো শান্ত ও নিরপেক্ষ দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের এই হামলা বিশ্বজুড়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পর কুয়েতে এই হামলার ঘটনা সমগ্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক চরম উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি করল।

