ভারতের উজান থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির এই তীব্র চাপে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে গেছে। এর ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিনভরই নদীর পানি বাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছিল। এরপর রাতের দিকে কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট অংশ বিকট শব্দে ধসে যায়। মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর উপচে পড়া পানি তীব্র স্রোতে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লস্করপুর ইউনিয়নের নোয়াবাদ, চরহামুয়া, আদ্যপাশা, বনগাঁও, কালীগঞ্জ, সুঘর ও কটিয়াদিসহ আশপাশের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে আকস্মিকভাবে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
হঠাৎ ঘরে কোমরসমান পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের প্রয়োজনীয় আসবাব, গবাদিপশু এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নদীর অক্ষত বাঁধ, উঁচু সড়ক ও স্থানীয় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন। লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সাহেব আলী জানান, রাতের মধ্যেই অন্তত দুই হাজার পরিবারের বসতভিটা সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। একই সাথে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার রেকর্ড ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে হবিগঞ্জ সদর পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া সুতাং নদীর পানিও বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঁধের আরও কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যার পানি নতুন নতুন নিচু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

