প্রধান খবর

মরক্কোকে ক্লান্ত করেই জয় ছিনিয়েছে ফ্রান্স: দিদিয়ে দেশম

মরক্কোর রক্ষণভাগের কড়া চ্যালেঞ্জ, প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস এবং একাধিক নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরও ম্যাচ জয়ের বিষয়ে ফরাসি শিবিরে কোনো সংশয় ছিল না বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশম। হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে এ কথা বলেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যায়। খেলার ২৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে তাঁর জোরালো শটটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। এই ধাক্কার পরেও আক্রমণের চাপ ধরে রাখে ‘লে ব্লুজ’রা। প্রথমার্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে লুকাস ডিনের একটি দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট বারে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় ফরাসি সমর্থকদের। তবে মাঠের খেলোয়াড়রা ধৈর্য না হারিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন এবং এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলেদের জন্য আক্রমণভাগের ফাঁকা জায়গা তৈরির অপেক্ষা করতে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত ফরাসিদের এই কৌশলী ধৈর্যের ফল আসে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, “প্রথমার্ধে আমাদের দক্ষতায় কিছুটা ঘাটতি ছিল, পেনাল্টি মিসের পাশাপাশি বেশ কিছু সুযোগ আমরা হাতছাড়া করেছি। কিন্তু আমাদের মনে কখনোই কোনো সংশয় জাগেনি, বিশেষ করে কিলিয়ানের তো নয়ই।” এই জয়ের ফলে ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল বর্তমান রানার্সআপরা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ চারে তাদের মুখোমুখি হতে হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের।

মরক্কোকে পরাস্ত করার মূল রণকৌশল নিয়ে দেশম আরও জানান, “আমরা তাদের কোণঠাসা করার জন্য শুরু থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি। আমরা তাদের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করেছি এবং মাঠের চারদিকে দৌড়াতে বাধ্য করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল তাদের শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে ফেলা এবং শেষ পর্যন্ত তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।”

২০১২ সালে ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দিদিয়ে দেশম তাঁর দলকে সাতটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের (ইউরো ও বিশ্বকাপ) মধ্যে পাঁচবারই সেমিফাইনালে তুলেছেন। এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের ফুটবলারদের দিয়ে তিনি বলেন, “দলে ভালো খেলোয়াড় থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। কোচিং স্টাফদের সাফল্য আসে খেলোয়াড়দের হাত ধরেই।” ডাগআউটে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, “আজকের ফলাফলের বাইরেও ওয়ারেন জাইরে-এমেরির মতো তরুণরা মাঠে নেমে দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেছে, যা দলের গভীরতা প্রমাণ করে।”

আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখলেও এখনই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে হাওয়ায় ভাসতে রাজি নন এই ফরাসি মাস্টারমাইন্ড। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবারের আসরের তুলনা করে তিনি বলেন, “২০১৮ সালে কেউ আমাদের সফল হওয়ার আশা করেনি। ২০২২ সালে আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। কিন্তু এবার টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই সবাই আমাদের চ্যাম্পিয়ন ধরে রেখেছে।” এই মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর দলের রয়েছে জানিয়ে দেশম বলেন, “আমার খেলোয়াড়রা এই চাপের মুখে খেলতে অভ্যস্ত। এই মুহূর্তে আমরা ১৪ জুলাইয়ের সেমিফাইনালের চেয়ে দূরে কিছু ভাবছি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *