আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আবারও দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটে অনুভূত এই ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনো জরুরি পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করেনি।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আঘাত হানে। কম্পনটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প-এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম জেলা। এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রায়ই ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করেন এবং ছোট-বড় কম্পন নিয়মিত অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান। তাই ভূমিকম্পের পর স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে, যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এর আগে গত ২৭ জুন আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। তবে সেই ঘটনাতেও কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশটির ভূমিকম্প পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সবশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে বাড়িঘরের ছাদ ও দেয়াল ধসে অন্তত সাতজন নিহত হন এবং প্রায় ১৫০ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
সর্বশেষ আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প-এ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

