অ্যাজমার রোগীদের খাবারের তালিকা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও খাবার সরাসরি অ্যাজমার কারণ নয়, তবে কিছু খাবার হাঁপানির উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে কিছু পুষ্টিকর খাবার ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই অ্যাজমার রোগীদের খাবারের তালিকা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে রোগ নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাজমা একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এতে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কিছু নির্দিষ্ট খাবার সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অ্যাজমার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিজের শরীরের সঙ্গে কোন খাবার মানিয়ে যায় এবং কোনটি সমস্যা সৃষ্টি করে, তা শনাক্ত করা জরুরি।
অ্যাজমার রোগীদের খাবারের তালিকা থেকে সালফাইটযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব বাদ দেওয়া উচিত। শুকনো ফল, ওয়াইন এবং প্রক্রিয়াজাত আলুতে সালফাইট থাকতে পারে, যা অনেকের ক্ষেত্রে হাঁপানির উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি হট ডগ, টিনজাত মাংস, হ্যাম, পেপারোনি, সসেজসহ বিভিন্ন প্রিজারভেটিভযুক্ত মাংসও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যাদের নির্দিষ্ট খাদ্য অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, শেলফিশ বা যেসব খাবার খেলে অ্যালার্জি দেখা দেয়, সেগুলো অ্যাজমার রোগীদের খাবারের তালিকা থেকে বাদ রাখা উচিত। কারণ অ্যালার্জি অনেক সময় অ্যাজমার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। Nutrition Reviews-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খাওয়া, প্রাণিজ খাবার সীমিত রাখা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে প্রদাহ কমতে পারে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হাঁপানির উপসর্গও কমতে পারে।
অ্যাজমার রোগীদের খাবারের তালিকা-এ নিয়মিত রাখতে পারেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি। যেমন—কমলা, বিভিন্ন ধরনের বেরি, পালং শাক, ব্রোকলি ও গাজর। এসব খাবার শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার যেমন স্যামন মাছ, সার্ডিন, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিড নিয়মিত খাওয়া উপকারী। পাশাপাশি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার, বিভিন্ন শস্যদানা, ডাল এবং ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন সবুজ শাকসবজি ও কুমড়ার বীজ খাদ্যতালিকায় রাখলে ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য মিলতে পারে।
সবশেষে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাজমার রোগীদের খাবারের তালিকা সবার জন্য এক রকম নাও হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

