বৈশ্বিক বাণিজ্যে নানা সংকটের মধ্যেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো পরিবহন, জাহাজ পরিচালনা এবং রাজস্ব আয়ে রেকর্ড গড়ে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ৩৪ লাখের বেশি টিইইউস কনটেইনার এবং ১৩ কোটির বেশি মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। একই সময়ে ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে বন্দর। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। সর্বশেষ হিসাবে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকার বেশি। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অনলাইন সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কোষাগারেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব জমা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রই নয়, বরং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবে পরিণত হবে।

