পাকিস্তানের করাচিতে রেঞ্জার্সের একটি ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলায় তিন সেনা নিহত এবং মোট ১০ জন হতাহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে হামলাকারীরাও রয়েছে। রোববার জিও নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘জামাত-উল-আহরার’ নামের একটি গোষ্ঠী যা বহু বছর ধরে পাকিস্তানে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী-এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, করাচির গুলিস্তান-ই-জোহর ব্লক ৬-এর কাছে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণের পরপরই ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে মৌসুমিয়াত চৌরঙ্গি থেকে গুলিস্তান-ই-জোহর ব্লক ৬, কামরান চৌরঙ্গি এবং চমন ইকবাল কলোনিগামী সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ভারতসমর্থিত একটি গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে। প্রথমে ক্যাম্পের মূল ফটকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, এরপর সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। রেঞ্জার্স সদস্যদের সতর্কতা ও পাল্টা প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আইএসপিআর জানায়, অভিযানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং আহত অবস্থায় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি আফগানিস্তানের নাগরিক।
আইএসপিআর আরও জানায়, হামলাকারীরা ‘জামাত-উল-আহরার’ গোষ্ঠীর সদস্য একটি সহিংস সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে। হামলার পর এলাকায় সন্ত্রাসীদের খোঁজে চিরুনি অভিযান চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

