ডেনমার্ক জুড়ে আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামিকরণ’ ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ। ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা রিৎজাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেনমার্কের জনপরিসরে ইসলামিক প্রভাব বাড়ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল ও ডেইলি টেলিগ্রাফ সাক্ষাৎকারটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করেছে।
বোদস্কভ জানান, বর্তমানে ডেনমার্কের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ মুসলিম, যা দেশটির সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তার ভাষায়, “ডেনমার্কের বাড়িঘরের ছাদ থেকে আজানের আহ্বান শোনা যাওয়া উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, ডেনমার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় যদি মনে হয় কেউ ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসে পড়েছে, তাহলে তা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নির্দেশে ডেনমার্ক অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতি ডেনমার্কের। এর আগে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে দেশজুড়ে মুখঢাকা হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে দেশটি।
তবে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ডেনমার্কের সংবিধানে জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মচর্চার অধিকার স্বীকৃত। সমালোচকদের মতে, এই পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এই চ্যালেঞ্জকে খুব বড় বাধা হিসেবে দেখছে না। আজান ও হিজাবের মতো ইসলামিক প্রথা নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে।
ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, “ডেনমার্ককে ইসলামীকরণের কোনো সুযোগ নেই।” তার মতে, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

