চলমান তীব্র দাবদাহের মধ্যে যুক্তরাজ্যে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের উইগনহোল্ট এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ ৫০ বছর পর জুন মাসে এত বিপুল তাপমাত্রা দেখল ব্রিটেনের নাগরিকেরা।
উইগনহোল্টের এই রেকর্ড তাপমাত্রা পৌঁছানোর ফলে ১৯৭৬ সালে স্থাপিত ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পুরোনো রেকর্ডটি ভেঙে গেছে। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার এই রেকর্ড অক্ষুণ্ন ছিল। আকস্মিক ও তীব্র এই গরমের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অনেক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের খাল, নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নেমে জলকেলি করতে দেখা গেছে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের প্রধান বিজ্ঞানী স্টিফেন বেলচার এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জুন মাসে যুক্তরাজ্যে এ ধরনের রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব ও নির্মম প্রভাবকে সরাসরি সামনে নিয়ে আসে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে, ঠিক তেমনই দেশের পরিবহন, জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, বুধবারের তুলনায় আরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এছাড়া বৃহস্পতিবারও এই চরম গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ইংল্যান্ডের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাপ সতর্কতা (হিট অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

