বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছেন। ভিসা নীতির কড়াকড়ি এবং ভারতীয় রুপির ধারাবাহিক দরপতন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাইকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে ইউরোসহ বিশ্বের প্রধান মুদ্রার বিপরীতে রুপির ব্যাপক অবমূল্যায়ন হয়েছে, যার ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ঝাড়খণ্ডের ২৯ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রগতি প্রিয়া ইউরোপে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “চিন্তায় আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এমন কোনো ঋণের বোঝা নিতে চাই না, যা সারা জীবনেও শোধ করা সম্ভব হবে না।” প্রিয়ার মতো লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ভারতীয় শিক্ষার্থী একই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনা করছেন যা চীনকে পেছনে ফেলে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উৎস দেশে পরিণত করেছে। তবে রুপির অবমূল্যায়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা এবং ভিসা নীতির কঠোরতা এই অবস্থান ধরে রাখার বিষয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভারতের এডওয়াইজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা সুশীল সুখওয়ানি জানান, বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। গত দুই বছরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমেছে। আগামীতে এই হার আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভিসা কড়াকড়ির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির সেশনে যুক্তরাজ্যের ৭৬ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সব মিলিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সামনে এখন অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ ও ভিসা জটিলতার এক কঠিন বাস্তবতা দাঁড়িয়ে গেছে।

