লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এর জের ধরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এটি তাদের প্রথম পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ইরান।
শনিবার (২১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এই ঘোষণা দেয়।
ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল। চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজ চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে শত্রুপক্ষকে চুক্তি মানতে বাধ্য করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রণালিটি প্রথম দফায় বন্ধ করেছিল তেহরান। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছিল।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের মধ্যস্থতায় শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই শর্ত উপেক্ষা করে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে ভোররাতে চালানো হয় ভারী গোলাবর্ষণ। এই হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী, সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার কথা ছিল, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তারা এই চুক্তির অংশ নয় এবং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে জোরালো দাবি জানানো হবে। ওয়াশিংটন যদি নিজেদের দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান তার জাতীয় স্বার্থে আরও বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

