প্রধান খবর

তিস্তায় পানি বাড়তেই বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা

তিস্তায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধসংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নদীর পানি বাড়তেই মাটি সরে যাচ্ছে, আর ভাঙনের গতি এত দ্রুত যে তারা এখন ভীষণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগম জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শহরে যাতায়াত করেন তিনি। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে বলে তার আশঙ্কা। তিস্তা সেতু এলাকার শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উজান থেকে পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। রাত ৮টার মধ্যে ৩০ মিটারের বেশি অংশ ভেঙে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে।

প্রতিদিন মহিপুরের তিস্তা সড়ক সেতু দিয়ে ৩০-৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ ভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, গত বছরও একই স্থানে প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। তখন এলজিইডি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং দিয়ে অস্থায়ীভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবার আবারও সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে পানির স্রোত বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, “নদীতে পানি বাড়তেই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা এখন খুব ভয় পাচ্ছি। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।”

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *