ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শিশুদের মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ২৬৫টি শিশু নিহত হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও চার শতাধিক শিশু।
সংস্থার মুখপাত্র জেমস এল্ডার এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যে সময়টিকে পারস্পরিক সংযম ও শিশুদের সুরক্ষার সময় হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল, দুঃখজনকভাবে সেই সময়েই গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে।” আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি ‘অযৌক্তিক ও বিধ্বংসী’ বাস্তবতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
জেমস এল্ডার আরও জানান, নিহত শিশুদের কেউ সরাসরি গুলিতে, কেউ বিমান হামলায়, আবার কেউ বা ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার ‘৯০ শতাংশেরও বেশি’ ক্ষেত্রে শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান। যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এই পরিসংখ্যানটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও সমালোচনা বাড়ছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও কেন শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে।
শিশুদের ওপর এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রভাবকে একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। সংঘাতগ্রস্ত এলাকায় শিশুদের মৌলিক অধিকার ও জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

