প্রধান খবর

মেলবোর্নে এবিসিএইচসির ঈদ পুনর্মিলনী: প্রবাসী শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির মেলবন্ধনে উৎসবের আমেজ

সুদূর প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো ঈদ পুনর্মিলনী ও মিলনমেলা। গত ৭ জুন (রোববার) স্থানীয় ‘অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প সেন্টার’ (ABCHC)-এর উদ্যোগে এই আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রায় শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল রূপ নেয় এক টুকরো মিনি বাংলাদেশে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এই মিলনমেলাকে আরও বেশি উৎসবমুখর ও অর্থবহ করে তোলে।

আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসে পরিবার-পরিজন থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাকীত্ব দূর করা এবং তাদের মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার কথা বিবেচনা করেই এবারের বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। দেশের মতো ঈদের অনাবিল আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ছিল প্রবাসের স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, চট্টলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু মেজবানি খাবারের মধ্যাহ্নভোজ এবং দিনশেষে সবার জন্য বড় চমক হিসেবে ছিল আকর্ষণীয় ‘ফায়ার শো’। বিশেষ করে উপস্থিত শিশুদের মধ্যে ফায়ার শোর রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী ব্যাপক কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে মেলবোর্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক আড্ডা, কোলাকুলি ও স্মৃতিচারণ উৎসবের আমেজকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আয়োজক কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক সিএইচ এম রহমান প্রান্ত উপস্থিত অতিথি, সুধীজন ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং নিরলস পরিশ্রমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও নিষ্ঠার কারণেই আজ আমরা এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।” অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করে বলা হয়, আনন্দ, বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য এবং ঈদের প্রকৃত সামাজিক চেতনায় পরিপূর্ণ এই অসাধারণ আয়োজনটি যারা মিস করেছেন, তারা সত্যিই একটি দারুণ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প সেন্টার (ABCHC) জানায়, মেলবোর্নে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কল্যাণসহ সামগ্রিক কমিউনিটির স্বার্থে এই ধরনের সামাজিক ও কল্যাণমুখী উৎসবের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *