সাভার পৌর এলাকায় নিজ স্ত্রীকে হত্যার পর ফ্ল্যাটের বাইরে তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে গেছেন এক ছাত্রদল নেতা। খবর পেয়ে গতকাল সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সাভার পৌরসভার ছায়াবীথি আমতলা এলাকার একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে রিয়া মনি (২১) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও সদ্য ঘোষিত সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছায়াবীথি আমতলা এলাকায় ডা. তৌহিদুজ্জামানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রনি ও রিয়া দম্পতি বসবাস করতেন। নিহত রিয়া মনির বাবা রউফ চৌধুরী বর্তমানে সৌদি আরবে এবং মা বিউটি আক্তার মালয়েশিয়ায় প্রবাসী হিসেবে কর্মরত। তাদের স্থায়ী নিবাস নোয়াখালীর মাইজদী এলাকায়। প্রায় দেড় বছর আগে রনি ও রিয়ার বিয়ে হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রনি ঠিকমতো কোনো কাজকর্ম করতেন না, যার ফলে সংসারের যাবতীয় খরচ রিয়ার প্রবাসী বাবা-মা বহন করতেন। বেকারত্ব ও আর্থিক বিষয় নিয়ে গত কিছুদিন ধরে এই দম্পতির মধ্যে তীব্র পারিবারিক কলহ চলছিল এবং রনি মাঝেমধ্যেই রিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
নিহতের মামা সাদ্দাম ও নানি জাহানারা বেগম অভিযোগ করে জানান, রোববার রাতেও তারা একসাথেই ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে রিয়াকে নির্মমভাবে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রিয়াকে হত্যার পর রনি নিজেই মুঠোফোনে তার মাকে বিষয়টি জানান। এরপরই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানাজানি হয়। রনির পরিবার সাভারের সোবহানবাগ এলাকায় বসবাস করে। পরবর্তীতে বিকেলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রনির মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী জানান, খবর পেয়ে বিকেলে ওই ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

