টুর্নামেন্ট যত ঘনিয়ে আসছে, জর্ডান ততই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তাদের লক্ষ্য এবার শুধু অংশগ্রহণ নয়, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ভাগ্য বদলে দেওয়া। দেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা প্রতিভাবান প্রজন্মকে সামনে রেখে তারা প্রস্তুত নতুন অধ্যায় লেখার। এএফসি এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছানোর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার তাদের চোখ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণে।
এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে ধারাবাহিক সাফল্যের পর সাবেক কোচ হুসাইন আম্মুতা নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দায়িত্ব তুলে দেয় তারই স্বদেশী, মরক্কোর সাবেক তারকা মিডফিল্ডার জামাল সেলামির হাতে। ৫৫ বছর বয়সী সেলামি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, আর কোচিংয়ে তার অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি জর্ডানকে নতুন ছন্দে ফিরিয়ে আনে।
২০২৪ সালের জুনে ‘নাশামা’দের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেলামি রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দলকে দিয়েছেন গতিশীল ও আধুনিক ফুটবলের ছোঁয়া। তার অধীনে ১২ ম্যাচে জর্ডান হেরেছে মাত্র দুটিতে, করেছে ১৯ গোল এবং হজম করেছে মাত্র ৮টি যা তাদের অগ্রগতির স্পষ্ট প্রমাণ।
নয়বারের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর অবশেষে জর্ডান কাটিয়ে উঠেছে দীর্ঘ খরা। দৃঢ় সংকল্প, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিরলস পরিশ্রমের ফসল হিসেবে তারা অর্জন করেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের স্বপ্ন, বারবার ভেঙে যাওয়া আশা, আবারও উঠে দাঁড়ানোর সাহস এবং শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
জর্ডানের এই যাত্রা শুধু ফুটবল নয় এটি একটি জাতির আত্মবিশ্বাস, সংগ্রাম ও পুনর্জাগরণের গল্প। বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা কতদূর যাবে তা সময় বলবে, তবে নাশামারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে স্বপ্ন দেখলে অসম্ভবও সম্ভব।

