চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি। তার দাবি, আলোচনার বল এখন আমেরিকার কোর্টে, কিন্তু ট্রাম্পের অস্পষ্ট কথাবার্তা ও অনিশ্চিত অবস্থান ইরানের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। সব তথ্যই নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্র থেকে যাচাই করা হয়েছে।
রেজায়ি বলেন, ইরান তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র অস্পষ্ট জবাব দিচ্ছে। তার মতে, এই সম্পদ মুক্তিই হবে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতার ন্যূনতম পরীক্ষা। তিনি আরও জানান, দুই দেশের গভীর অবিশ্বাস দূর করতে হলে ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রেজায়ি বলেন, তেহরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ও এনপিটি মেনেই কাজ করছে। কিন্তু যেহেতু ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিল করেছিলেন, তাই তার সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে ইরানের আস্থা নেই এবং বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হবে না।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই জলপথ বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ। তবে সেখানে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি বা সামরিক মোতায়েন করা হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের অংশ হওয়ায় পরিবেশ রক্ষা ও ট্রানজিট ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রেজায়ি বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তারা কেবল কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করেছিলেন। প্রতিবেশী কিছু দেশ শত্রুদের জন্য আকাশসীমা উন্মুক্ত করলেও ইরান কেবল মার্কিন স্বার্থেই পাল্টা আঘাত হেনেছে।
যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সংঘাত প্রমাণ করেছে যে প্রচলিত যুদ্ধের যুগ শেষ। এখন সৃজনশীল উপায়ে পরিচালিত অসম যুদ্ধই বেশি কার্যকর। ইরানের সামরিক শক্তি কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্ব যাতে ইরানের আসল শক্তি দেখতে পারে, সেজন্য তারা মূলত মার্কিন স্থল অভিযানের অপেক্ষায় ছিলেন, কারণ ইরানের স্থল বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী।

