ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপও এখন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই টুর্নামেন্টকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ১৯৩০ সাল থেকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, কিন্তু এবারই প্রথম যুদ্ধ-পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিপক্ষ দেশকে কোনো আয়োজক দেশ স্বাগত জানাতে যাচ্ছে।
তেহরান শুরু থেকেই তাদের বিশ্বকাপ ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক মেক্সিকোয় নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তেও আরিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। রোববার তাদের তিজুয়ানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে।
বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত হয়েছে। ১৫ জুন তারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে, এরপর বেলজিয়াম ও মিশরের মুখোমুখি হবে। ইরানের মেক্সিকান রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা ইরানের দলকে নিজেদের ভূখণ্ডে রাখতে চায় না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি দলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আইআরজিসি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী শাখা, যা দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা-সংকট বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে।

