প্রধান খবর

কিউবার প্রেসিডেন্টের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, তীব্র সংকটে দ্বীপরাষ্ট্র

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবং এই তালিকায় রাখা হয়েছে তার স্ত্রী ও সন্তানকেও। কমিউনিস্ট-শাসিত কিউবার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক চাপের সর্বশেষ উদাহরণ এটি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনী কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ আরোপ করায় দেশটিতে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও খাদ্য সংকট দেখা দেয়।

নতুন নিষেধাজ্ঞায় প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও সৎপুত্র ছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর পুত্র এবং এক নাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাউল কাস্ত্রো যিনি ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই-তার বিরুদ্ধে গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী এবং বিপ্লব প্রতিরক্ষা কমিটিও (সিডিআর)। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, কিউবার কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর কিউবার দিকেও নজর দেওয়া হবে। তার ভাষায়, “আমরা ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিষয়টি সামলে নেব, এবং সেটা হয়ে গেলেই ফেরার পথে আমরা শুধু অল্প সময়ের জন্য এখানে থামব।”

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা করেছেন। তিনি একে মার্কিন হস্তক্ষেপবাদের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কিউবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রতিটি হুমকি জনগণের ঐক্য ও সংকল্পের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে।

১৯৬২ সাল থেকে কিউবার ওপর মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চলছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এই চাপ আরও বেড়েছে। এর ফলে গত জানুয়ারি থেকে দেশটি তীব্র ডিজেল সংকটে ভুগছে। জেনারেটর চালানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় দিনে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে, সঙ্গে পানির সংকটও তীব্র হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কিউবা মেক্সিকো ও চীন থেকে আসা মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *