আর মাত্র দুই মাস পরই পরিবারের সম্মতিতে শুভ পরিণয়ের কথা ছিল ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণ নাবিক অখিল জয়ানের। মাত্র তিন মাস আগেই ধুমধাম করে সম্পন্ন হয়েছিল তাঁর বাগদান। কিন্তু জীবনসঙ্গীকে সাথে নিয়ে নতুন সংসার বাঁধার সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল। ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় ওডেসা বন্দরের কাছে এক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সলিলসমাধি ঘটেছে এই তরুণ নাবিকের।
গত রোববার (১৯ জুলাই) ওডেসা বন্দরের কাছে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি খাদ্যশস্যবাহী জাহাজে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ সামরিক বাহিনী। এই হামলায় চার ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১০ জন ক্রু নিহত হন এবং অপর এক ভারতীয় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহত অখিল জয়ান ভারতের কেরালা রাজ্যের কাসারগড় জেলার ভেল্লারিকুন্ডু এলাকার বাসিন্দা এবং মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, অখিলের বাবা একটি ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান চালান এবং মা বিমা এজেন্ট হিসেবে কর্মরত। মাত্র এক মাস আগেই তিনি ছুটি কাটিয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দিয়েছিলেন। অতি সম্প্রতি পরিবারের সহায়তায় নতুন একটি বসতবাড়িও নির্মাণ করেছিলেন তারা। মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় পরিবারের সকল আর্থিক ও মানসিক নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অখিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের এক ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।
হামলার শিকার ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামের জাহাজটি পরিচালনা করছিল মুম্বাইভিত্তিক ‘ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড’। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর অখিলের নিথর দেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনেরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কূটনৈতিক দপ্তরগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কেরালা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়ার কনস্যুলেট ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ রেখে দ্রুত লাশ হস্তান্তরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো এবং বেসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। নয়াদিল্লি নিহতদের স্মরণে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করার পাশাপাশি ইউক্রেনে অবস্থানরত ভারতীয় মিশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে।

