সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) দিয়ে তৈরি নয় বরং বাস্তব— তথ্য যাচাইকারী সংস্থাগুলোর এমন তথ্যের পর ওই তরুণীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করেন সংসদ সদস্য। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে পুরো ঘটনাকে ‘জিম্মি’ করে ব্ল্যাকমেইলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সাথে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে রুমে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে এবং নগদ এক লাখ টাকা আদায় করে। পরবর্তীতে ভাড়াকৃত গাড়ি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী-স্ত্রীর ‘ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের’ ফুটেজ ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্যের দাবি অনুযায়ী, গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মোছা. মরিয়াম বেগমের সাথে তাঁর দ্বিতীয় বিবাহ সম্পন্ন হয়। শ্বশুরকুলের পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে চালানোর অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি শাস্তির দাবি জানান।
তবে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কেন বিলম্ব হলো— এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র ও তুমুল সমালোচনা দেখা গেছে। অনেকে বিষয়টিকে দায়িত্ব এড়ানোর নতুন গল্প বলে ব্যাখ্যা করছেন, আবার ১৮ বছরের তরুণীকে এই বয়সে বিয়ে করা নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে নানামুখী প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক।

