ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। এবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বুধবার (৩ জুন) ভোরের দিকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর ইরানের এই সরাসরি হামলাকে কেন্দ্র করে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মাঝরাতে কুয়েতের অভ্যন্তরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে কুয়েতি ও মার্কিন যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় থাকায় আঘাত হানার আগেই আকাশেই সেগুলো সফলভাবে ধ্বংস করে ফেলা হয়। ফলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। দেশের অভ্যন্তরে কোনো স্থাপনা বা জানমালের ক্ষতি হয়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাঝরাতে কুয়েতজুড়ে যে বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল, সেটি মূলত শত্রুপক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার আওয়াজ।
তবে কুয়েতের এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্যের দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক জরুরি বার্তায় আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে তাদের অন্তত ৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত সফলভাবে এবং নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। এই সফল হামলার স্বপক্ষে তাদের কাছে ভিডিও ও রাডার ডেটাসহ যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১ জুন (সোমবার) কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান। সে সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বার্তায় জানিয়েছিল, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এবারের হামলাটি ছিল বেশ সুপরিকল্পিত। কুয়েতে হামলার ঠিক একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি লক্ষ্য করেও ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। তবে বাহরাইনের সেনাবাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা বিস্তারিত কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে আধা-সরকারি ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার মাঝরাতে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত ইরানি দ্বীপ ‘কেশম’-এর আশপাশে তীব্র বিস্ফোরণ ও সামরিক তৎপরতার শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একসঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করে আইআরজিসি। এই হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও পেন্টাগন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রেখেছে।

