প্রধান খবর

টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে আর্সেনালকে বধ: চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট ধরে রাখল পিএসজি

দীর্ঘ এক দশক পর ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল অতিরিক্ত সময়ের সীমানা পেরিয়ে গড়াল ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে। আর সেই রুদ্ধশ্বাস ও স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শুটআউটে শেষ হাসি হাসল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বুদাপেস্টের ঐতিহাসিক পুসকাস অ্যারেনায় ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে পরাস্ত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপের রাজত্ব ধরে রাখল ফরাসি জায়ান্টরা।

মেগা ফাইনালের শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল গানার্সরা। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ছয় মিনিট, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে আর্সেনালকে লিড এনে দেন জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হ্যাভার্টজ। প্রথমার্ধে আক্রমণের ধার বজায় রেখে ব্যবধান দ্বিগুণ করার আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্সেনাল, তবে পিএসজির ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের কারণে তা গোল লাইনের দেখা পায়নি। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পিএসজিকে দেখা যায় মাঠে। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। ফলশ্রুতিতে, ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বক্সের ভেতরে পিএসজির জর্জিয়ান উইঙ্গার খভিচা কাভারাস্কেইয়াকে ফাউল করে বসেন আর্সেনালের ডিফেন্ডার। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথার নির্ভুল শটে পিএসজিকে সমতায় ফেরান ফরাসি তারকা উসমান ডেমবেলে।

১-১ গোলে সমতা ফেরার পর ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় পিএসজি। কিন্তু কাভারাস্কেইয়ার একটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে এবং ফরোয়ার্ডদের বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল হয়নি। এরপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দলের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি কেউ। ফলে ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব চলে যায় পেনাল্টি শুটআউটের ওপর।

টাইব্রেকারের প্রতি পদে ছিল টানটান উত্তেজনা। আর্সেনালের হয়ে এবেরেচি এজে পেনাল্টি মিস করে বসলে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায় পিএসজি। তবে নাটকীয়তা বাড়িয়ে পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট চমৎকারভাবে রুখে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়া। ফলে শেষ শট পর্যন্ত ম্যাচটি ঝুলে থাকে। পিএসজির হয়ে লুকাস বেরালদো সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করার পর আর্সেনালের ওপর চরম চাপ তৈরি হয়। গানার্সদের হয়ে শেষ শটটি নিতে আসেন গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, কিন্তু স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলটি বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন। আর তাতেই ৪-৩ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে পিএসজি।

এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের আধুনিক যুগে রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা দুইবার ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ল পিএসজি। যে প্যারিসের ক্লাবটি কয়েক বছর আগেও একটি ইউরোপীয় ট্রফির জন্য হাহাকার করছিল, তারা এখন টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *