প্রধান খবর

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা

মূলধারার প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নিজের আইনি লড়াইয়ের অবস্থান আরও কঠোর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য পত্রিকা ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) এবং ব্রিটিশ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘বিবিসি’ (BBC)-র বিরুদ্ধে পৃথক দুটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। ফ্লোরিডার মিয়ামির ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই দুই মামলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যৌথভাবে মোট ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রতিটি মামলায় ১০ বিলিয়ন ডলার করে) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও বিপুল অঙ্কের আইনি পদক্ষেপকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও মিডিয়া বিশ্লেষকরা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আইনি ত্রুটি ও জটিলতার কারণে এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দায়ের করা একটি মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছিলেন। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে গত বুধবার মিয়ামি ফেডারেল আদালতে মামলাটির একটি সংশোধিত ও নতুন সংস্করণ দাখিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই মামলায় তিনি কমপক্ষে ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের কাছে পাঠানো একটি বিতর্কিত জন্মদিনের কার্ড নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয় যে, কার্ডটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব স্বাক্ষর ছিল। তবে ট্রাম্প এবং তাঁর প্যানেল আইনজীবীদের দাবি, এই কার্ডটি সম্পূর্ণ জাল, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও এপস্টাইনের হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তকারী মার্কিন আইনপ্রণেতারাই প্রথম এই কার্ডটি জনসমক্ষে এনেছিলেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা তাঁদের সংশোধিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, “প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় বিবাদীরা মানহানিকর বিবৃতির সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আসল সত্য উদ্ঘাটন করতে অস্বীকার করেছিলেন।”

রুপার্ট মারডকের মালিকানাধীন এই সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বকে বিবাদী করা হয়েছে। তালিকায় স্বয়ং মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক ছাড়াও রয়েছেন নিউজ কর্পোরেশনের সিইও রবার্ট থম্পসন, ডাও জোন্স ও নিউজ কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এবং ডব্লিউএসজে-র দুই অনুসন্ধানী প্রতিবেদক খাদিজা সাফদার ও জোসেফ পালাজোলো। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ট্রাম্পের “মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি ও বৈশ্বিক সুনামের অবমাননা” করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পাশাপাশি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র বিরুদ্ধেও সমপরিমাণ (১০ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ চেয়ে মিয়ামির ফেডারেল আদালতেই পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে প্রধানত দুটি ধারায় মামলাটি সাজিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি ধারার জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছে।

ধারা দুটি হলো— ১. মানহানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং ২. ফ্লোরিডা প্রতারণামূলক ও অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন আইন লঙ্ঘন।
অভিযোগের মূল ভিত্তি হিসেবে বলা হয়েছে, বিবিসির একটি অতিসাম্প্রতিক তথ্যচিত্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে “মিথ্যা, মানহানিকর, প্রতারণামূলক, অবমাননাকর ও বিদ্বেষপূর্ণ” বিষয়বস্তু প্রচার করা হয়েছে। ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, এই তথ্যচিত্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষুণ্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস কিংবা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে এই মামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *