প্রধান খবর

হোয়াইট হাউসের কাছে বন্দুকযুদ্ধ: হামলাকারী নিহত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ভবন ‘হোয়াইট হাউস’ কমপ্লেক্সের কাছে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে এক সন্দেহভাজন বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন সাধারণ পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের বাইরের একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে এই ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিসের একজন মুখপাত্র প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানান, ওই সশস্ত্র ব্যক্তি আচমকা নিরাপত্তা চৌকিতে এসে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালালে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই আকস্মিক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় একজন সাধারণ পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি হামলাকারীর গুলিতে নাকি সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলির সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন ওই পথচারীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় যে, এই অভিযানে সিক্রেট সার্ভিসের কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা আহত হননি।

গোলাগুলির শব্দ শোনা মাত্রই হোয়াইট হাউস জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ লকডাউনে রাখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা টানা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। কর্তব্যরত সাংবাদিকরা জানান, সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা ‘শটস ফায়ারড’ (গুলি চলেছে) বলে চিৎকার করে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউস ব্রিফিং রুমে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত নিরাপত্তা বাহিনীকে পুরো এলাকা কর্ডন করতে দেখা যায়।

এদিকে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, এফবিআই-এর একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তারা সিক্রেট সার্ভিসকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করছে। ঘটনার কিছু সময় আগেই হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ভবন ত্যাগ করতে দেখা গিয়েছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *