ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মধ্যে গ্লিসারিন অন্যতম। ময়েশ্চারাইজার, লোশন ও সাবানসহ নানা প্রসাধনীতে নিয়মিত ব্যবহার হওয়া এই উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম না মেনে মুখে সরাসরি গ্লিসারিন ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে।
গ্লিসারিন বা গ্লিসারল একটি প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট, যা ত্বকের ভেতর ও আশপাশের বাতাস থেকে পানি টেনে এনে ত্বকের উপরিভাগ আর্দ্র রাখে। এ কারণে এটি শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমাতে সহায়ক এবং ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিন অনেক পরিচিত উপাদানের চেয়েও কার্যকর।
তবে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে খাঁটি বা অপরিশোধিত গ্লিসারিন ত্বকের ভেতর থেকে পানি টেনে নিতে পারে। এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাওয়া, জ্বালা বা ফোসকা পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা সরাসরি গ্লিসারিন ব্যবহারের পরিবর্তে গ্লিসারিনযুক্ত প্রস্তুত প্রসাধনী ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
অনেকেই গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করেন। গোলাপজলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী গুণ ত্বকের জন্য কিছুটা উপকারি হতে পারে। তবে যেকোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করা জরুরি। লালচে ভাব, চুলকানি বা র্যাশ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লিসারিন ত্বকের জন্য উপকারী হলেও মুখের সংবেদনশীল ত্বকে সতর্ক ব্যবহার জরুরি। নিয়মিত পরিচর্যার জন্য গ্লিসারিনযুক্ত ফেসওয়াশ বা ময়েশ্চারাইজারই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প।

