প্রধান খবর

হরমুজে আর কখনও টোল দিতে হবে না: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা

দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালি’। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) থেকে এই জলপথ দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতা চুক্তির ফলেই এই সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, এই আন্তর্জাতিক প্রণালি ব্যবহারের জন্য এখন থেকে আর কোনো দেশকে কোনো ধরনের টোল বা মাশুল দিতে হবে না।

গতকাল রোববার (১৪ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন। পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই আগামী শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে পেতে রাখা জলমাইন অপসারণের কাজ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য জলপথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালিটি মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। তেহরানের এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট দেখা দেয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় কমে যাওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান এতদিন এই পথ খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানে টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে মার্কিন প্রশাসন। পাশাপাশি ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা কঠোর অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। মার্কিন এই পাল্টা ব্যবস্থার কারণে ইরানের নিজস্ব বন্দরগুলো অচল হয়ে পড়ে এবং তাদের পক্ষেও হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

এমন এক চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থার মধ্যে পাকিস্তান এবং কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক মধ্যস্থতা সমীকরণ বদলে দেয়। এই দুই দেশের টানা তৎপরতার জেরেই অবশেষে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে আসতে রাজি হয় তেহরান। নতুন এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য আগামী ৬০ দিন সময় পাবে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধি দল। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে সব জলমাইন অপসারণ করে তা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *