প্রধান খবর

যে ম্যাজিকে আখাউড়ায় যুক্ত হলো বরিশল ইউনিয়ন

বরিশল-আখাউড়া যেন বহুদিনের সেতুবন্ধন, তার মাত্রা দিন দিন আরও দৃঢ় হয়েছে। গত দুই দশকে বরিশল, কোড্ডা, চান্দি-সহ আশপাশের গ্রামের মানুষ আখাউড়ায় বাড়ি কিনেছেন, সন্তানদের পড়াশোনা থেকে বাজার-সদাই সবই আখাউড়াকেন্দ্রিক। তবু ম্যাপের খাতায় তারা ‘বহিরাগত’। শব্দটা কর্কশ, কিন্তু অফিসিয়াল বাস্তবতা এটাই। অথচ আন্তরিকতা, সম্পর্ক আর কীর্তিকলাপে তারা আপাদমস্তক আখাউড়াবাসী; শুধু নেই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

বিষয়টি নিয়ে অনেকে ভেবেছেন, দু-এক কদম এগিয়েছেনও, কিন্তু দুই সীমানার মানুষকে এক করতে পারেননি। ফলে ভৌগোলিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও আখাউড়ার সীমানা বাড়েনি। এবার উদ্যোগ নিলেন কবির আহমেদ ভূইয়া। ঘোষণা দিলেন বরিশল হবে ইউনিয়ন। সরকারের উচ্চমহল থেকে প্রাথমিক অনুমোদন এনে প্রকাশ করালেন প্রজ্ঞাপন।

এরই মধ্যে দেখা গেলো মশাল মিছিল। যাদের জন্য এই ইউনিয়ন তারাই মুখে ফেনা তুলছে তারা এই ইউনিয়ন চাননা। তাহলে কলকাঠি নিশ্চয় কেউ নাড়ছে।

কবির আহমেদ বললেন, হিংসুকরা আমার পেছনে লেগেছে। তারা মানববন্ধন করেছে, গ্রামের মানুষদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।

এত বাধা-বিপত্তির পরও আজ অফিসিয়ালি বরিশল ইউনিয়ন যুক্ত হলো আখাউড়ার সঙ্গে। কিভাবে? এখানেই কবির আহমেদের ‘ম্যাজিক’। ভৌগোলিক দূরত্বের বাস্তবতা এই ছয় গ্রামের মানুষ আখাউড়ামুখী; এটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি সবাইকে এক করলেন।

যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো তাঁর ডাকে হঠাৎ সবাই এক হয়ে গেলেন। তবে বাস্তবে তিনি অনেক দিন ধরে শ্রম দিয়েছেন, স্থানীয় নেতা কর্মীদের বুঝিয়েছেন।

আবার আখাউড়ার যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বা চায়ের আড্ডায় আপত্তি তুলছিলেন তাদেরও তিনি বোঝালেন, ভৌগোলিক ব্যাসার্ধ বাড়লে সরকারি নজর বাড়ে, উন্নয়ন বাড়ে। ব্যস এখানেই পক্ষে এল আখাউড়ার সুশীল সমাজ। আঁকা হলো নতুন ম্যাপ, আখাউড়ার নতুন শাসিত অঞ্চল বরিশল।

যেন অন্যরকম উদযাপন উচ্ছ্বাস আর আনন্দ। মানুষ চিনলো যাঁর রক্তে নেতৃত্ব, তাকে দমানো যায় না।

লেখা: নির্জন মোশাররফ, অস্ট্রেলিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *