পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে যুবদল থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাংগী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা চালান আবুল কাশেম। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন, ১২ জুন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে একমাত্র আসামি করে আতাইকুলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবদল নেতা পলাতক ছিলেন। এদিকে, বর্বরোচিত এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল রোববার (১৪ জুন) বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ প্রশাসন। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে রোববার সারারাত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে সোমবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ দল। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুবদল। অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রোববার রাতেই আবুল কাশেমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এহতেশামুল হক রাজিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল কাশেমকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

