প্রধান খবর

ধর্ষণের অভিযোগে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস (যুবরাজ্ঞী) মেটে-ম্যারিটের ছেলে ম্যারিয়াস বোর্গ হোইবি-কে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাবাসের সাজার পাশাপাশি তাকে ৫ লাখ ৮০ হাজার নরওয়েজীয় ক্রোনার (প্রায় ৬০ হাজার ৮৪৮ মার্কিন ডলার) জরিমানা প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার রাজধানী অসলোর জেলা আদালত বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবরাজ্ঞীর ছেলে ম্যারিয়াসের বিরুদ্ধে মোট চারটি ধর্ষণ, গার্হস্থ্য নির্যাতন, গুরুতর শারীরিক আক্রমণ এবং মাদক গ্রহণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ, গার্হস্থ্য নির্যাতন এবং গুরুতর শারীরিক আক্রমণের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। তবে অন্য দুটি ধর্ষণের মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন এবং মাদক সংক্রান্ত মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকায় ছিলেন অসলো জেলা আদালতের স্টেট প্রসিকিউটর স্টার্লা হেনরিক্সবো। গতকাল চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে তিনি আসামির অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে ৭ বছর ৭ মাসের দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেওয়ার জন্য বিচারকের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছিলেন।

বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদনে পূর্ণ সাড়া না দিলেও রায় ঘোষণার সময় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যারিয়াসের বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য মামলার বিচারকাজ যতদিন চলবে, ততদিন তাকে কারাগারেই বন্দি থাকতে হবে। অন্যদিকে, ম্যারিয়াস বোর্গ হোইবির প্যানেল আইনজীবী জানিয়েছেন, জেলা আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তারা খুব শীঘ্রই উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবেন। নরওয়ের রাজপরিবারের কোনো সদস্যের এমন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *