প্রধান খবর

আট নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদজনক রূপ ধারণ করেছে। আবহাওয়া ও নদী পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বর্তমানে হাওর বেসিনের তিন জেলার অন্তত সাতটি নদীর পানি আটটি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা তৈরি করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইল ও হবিগঞ্জ সদরে ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুরে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এই ধারায় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংশ নদীর পানি সামান্য কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনা সদরে মগরা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আটপাড়া পয়েন্টেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অন্যদিকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কালনি নদীর পানি এবং সুতাং রেলসেতু এলাকায় সুতাং নদীর পানি বিপৎসীমার যথাক্রমে ১০ ও ৮৩ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের নদীগুলোর পানির সমতল অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়লেও তা জনপদ প্লাবিত করার জন্য যথেষ্ট ঝুঁকি তৈরি করছে।

সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যেও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উজানের পানি ও দেশের ভেতরের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হাওর সংলগ্ন জেলাগুলোতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *