ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদলু এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তিনি পাকিস্তানে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
ধারণা করা হচ্ছে, আরাগচির এই সফর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সফরকালে আব্বাস আরাগচি দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। আলোচনার মূল এজেন্ডা হিসেবে থাকবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।
মূলত পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভেঙে পড়া সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে পর্দার আড়ালে শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনা সফল না হওয়ায়, এই দ্বিতীয় দফার উদ্যোগকে সফল করতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোচ্ছে পাকিস্তান।
এদিকে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, এই আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে পৌঁছাবেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন এবং ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মতে, ইসলামাবাদ এই শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সেতু’ হিসেবে কাজ করছে।

