রাজধানীর একটি থানায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গিয়ে খোদ পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলার শিকার হয়েছেন ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা।
ফাতেমা তাসনিম জুমার ভাষ্যমতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদের এক সদস্য থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে গেলে ঘটনার শুরু হয়। সেখানে তার ওপর প্রথম দফা হামলা চালানো হয়। হামলা থেকে বাঁচতে তিনি দৌড়ে ডাকসু নেতাদের কাছে পৌঁছান এবং জানান যে, আরও তিন শিক্ষার্থী থানায় আটক অবস্থায় আছেন এবং বাইরে শত শত ছাত্রদল কর্মী তাদের ঘিরে রেখেছেন।
থানায় অবরুদ্ধ ওই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের নিয়ে আসার জন্য ডাকসুর প্রতিনিধিরা পুলিশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় ডাকসুর প্রতিনিধি দল সশরীরে থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জুমা জানান, “আমরা কোনো উচ্চবাচ্য ছাড়াই যখন থানায় ঢুকছিলাম, ঠিক তখনই জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা শুরুহয়। তাদের মারতে মারতে এক পাশে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।”
ডাকসু নেত্রী জুমা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “থানার ভেতরে ওসির রুমে আমাদের জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা বারবার বের হওয়ার চেষ্টা করলেও তারা আমাদের বাধা দেয়। আর ওদিকে আমাদের চোখের আড়ালে জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, হামলাকারীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ছিল।
হামলার শিকার ডাকসু নেতা জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, থানার ভেতরে ওসির কক্ষের সামনে যদি ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও হামলার অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

