ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্টর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, “আমি সম্ভবত যুদ্ধবিরতি বাড়াব না, তবে অবরোধ অবশ্যই বহাল থাকবে।” যদিও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তি হতে পারে, তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান মৌলিক মতপার্থক্যগুলো এখনো নিরসন হয়নি।
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান শুক্রবার থেকে ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেহরান ক্ষুব্ধ। ইরান পাল্টা হুমকি দিয়েছে যে, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আবারও এই জলপথ বন্ধ করে দেবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরান কোনো প্রকার ‘টোল’ বা শুল্ক আরোপ করতে পারবে না তিনি তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেন, প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আগামী মে মাসে বেইজিংয়ে তাদের নির্ধারিত বৈঠকটি ‘ঐতিহাসিক’ হতে যাচ্ছে।
আলোচনার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে তেহরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।
এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দুই দেশের মধ্যস্থতামূলক আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগের নীতি, অন্যদিকে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

