প্রধান খবর

মার্কিন তেল বিশ্বের সেরা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত জ্বালানি তেলকে ‘বিশ্বের সেরা’ ও ‘সবচেয়ে মধুর’ (Sweetest) বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।

ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বিপুল সংখ্যক খালি তেলবাহী জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন যে, বিশ্বের শীর্ষ দুটি তেল উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের মজুত এবং তেলের মান অনেক উন্নত। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, “আমরা আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছি। বিশ্বের সেরা তেল ও গ্যাস লোড করতে দ্রুত চলে আসুন!”

প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সম্প্রতি ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

তবে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নাটকীয় মোড় আসায় তেলের বাজারে বড় ধরনের সংশোধন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া।

উল্লেখ্য যে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। যদিও বর্তমান যুদ্ধবিরতির ফলে দাম কিছুটা কমেছে, তবুও তা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। সংঘাতের পূর্বে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘অয়েল ডিপ্লোম্যাসি’ বা তেল কূটনীতি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর বিশ্বের নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন প্রভাবকে আরও সুসংহত করতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা পুরোপুরি কাটছে না বলেই মনে করছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *