ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ৯ এপ্রিল, ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ১ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত আটটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ধরে মোট আনুমানিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৭২০ মিলিয়ন ডলার। তবে পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এমকিউ-৯ রিপার বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী কমব্যাট ড্রোন হিসেবে বিবেচিত হলেও আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে এটি যথেষ্ট টেকসই নয় বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন। ড্রোনটি মূলত ছোট আকারের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে আকাশসীমা তুলনামূলকভাবে প্রতিরক্ষাহীন থাকে।
এটি ২০০৭ সালে প্রথম সার্ভিসে প্রবেশ করে এবং ডিজাইন ও তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল অ্যাটমিক্স অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেম। প্রায় ১,৭০০ কেজি পেলোড বহনে সক্ষম এই ড্রোনের সর্বোচ্চ রেঞ্জ ১,৯০০ কিলোমিটার এবং গতি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮২ কিলোমিটার।
এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন একটানা ২৭ ঘণ্টা মিশন পরিচালনা করতে পারে। এতে উচ্চ প্রযুক্তির এএন/ডিএএস-১ এমটিএস-বি মাল্টি-স্পেকট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম ও এএন/এপিওয়াই-৮ লিংক্স ২ রাডার সংযুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র হিসেবে এটি একসঙ্গে ১৬টি হেলফায়ার মিসাইল বহন করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টির অধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন তৈরি করেছে, যার অধিকাংশই মার্কিন বিমানবাহিনী পরিচালনা করে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, জাপান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, পোল্যান্ড ও ভারতও সীমিত সংখ্যক এই জাতীয় শক্তিশালী কমব্যাট ড্রোন ব্যবহার করে।
লেখা: সিরাজুর রহমান

