যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপ্রথাগত যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ থাকা ল্যাটিন আমেরিকার কুখ্যাত গ্যাং ট্রেন দে আরাগুয়াকে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সমপর্যায়ের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই গোষ্ঠী বহু বছর ধরে মানবপাচার, চাঁদাবাজি, ভাড়ায় খুন, অপহরণ এবং মাদক রুট নিয়ন্ত্রণসহ ভয়াবহ অপরাধে জড়িত যা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে জানান, তার নির্দেশে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান চালিয়ে গ্যাংটির নেতা নিনো গেরেরোকে হত্যা করেছে। পোস্টে যুক্ত করা ভিডিওতে একটি সবুজ ভবন ও পাশের টিনশেড ধ্বংস হতে দেখা যায়। ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযান ভেনেজুয়েলার “বন্ধুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে” পরিচালিত হয়েছে।
এর আগে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে তুলে আনে। মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে যোগসাজশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
নিনো গেরেরোর পুরো নাম হেক্টর রুথেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন দে আরাগুয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একটি জেলখানা–ভিত্তিক গ্যাংকে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে রূপ দেন। যুক্তরাষ্ট্র তার গ্রেপ্তারে লাখ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
তার নেতৃত্বে গ্যাংটি কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও চিলিতে বিস্তার লাভ করে। অভিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, যৌন পাচার, অপহরণ ও ভাড়ায় খুন ছিল তাদের প্রধান অপরাধ। গেরেরো বহু বছর কারাগারে ছিলেন, কিন্তু ২০১২ সালে ঘুষ দিয়ে পালিয়ে যান। ২০১৩ সালে আবার ধরা পড়লেও পরে আবারও পালাতে সক্ষম হন।
ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া রাজ্যের তোকোরন কারাগারকে তিনি কার্যত একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন—যেখানে ছিল চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ ও সুইমিং পুল। ২০২৩ সালে মাদুরো ১১ হাজার সেনা পাঠিয়ে কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে গেরেরো আবার পালিয়ে যান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বলিভার রাজ্যের স্বর্ণখনি, ক্যারিবীয় উপকূলের মাদক রুট এবং ভেনেজুয়েলা–কলম্বিয়া সীমান্তের গোপন পারাপার গেরেরোর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে এই গ্যাংয়ের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত আট দেশে বিস্তৃত। মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে মার্কিন বাহিনী বিভিন্ন নৌযানে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলোকে ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

