মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল, ২০২৬) পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে হতাহতের এই আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, যুদ্ধের তীব্রতায় নিহতের পাশাপাশি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর বিশাল একটি অংশ আহত হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট ৩৬৫ জন মার্কিন সেনা সদস্য এই সংঘাতে বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি মার্কিন সেনাবাহিনীর, যার সংখ্যা ২৪৭ জন। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ৬৩ জন এবং বিমান বাহিনীর ৩৬ জন সদস্য আহত হওয়ার তালিকায় রয়েছেন। অভিজাত মেরিন কোরের ১৯ জন সদস্যও এই যুদ্ধে জখম হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, গতকাল দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। তবে এই বিমান বিধ্বংসী হামলায় কোনো সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে কি না অথবা পূর্বের হতাহতের তালিকায় এই ঘটনার কেউ অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগন স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি। কারিগরি ত্রুটি নাকি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমান দুটি ধ্বংস হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হতাহতের ঘটনা হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করবে। ইরানের সাথে সরাসরি এই সংঘাত এখন কেবল প্রক্সি যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। পেন্টাগনের এই স্বীকারোক্তি মার্কিন জনমনে এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি মার্কিন সামরিক কৌশলে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে।
বর্তমানে আহত সৈনিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা সৈন্যদের নিরাপত্তা জোরদার করতে জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

