লেবাননে সংঘাতের মধ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। নিহত ওই শান্তিরক্ষী ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাকার্তা।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, লেবাননে হামলায় নিহত এক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই ঘটনায় আহত হওয়া আরও তিনজনও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আদশিত আল-কুসাইর এলাকায় ইন্দোনেশীয় ইউনিফিল (ইউএনআইএফআইএল) কন্টিনজেন্টের অবস্থানের কাছাকাছি ‘পরোক্ষ আর্টিলারি হামলার’ কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইন্দোনেশিয়া বলেছে, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সবসময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ওপর কোনও ধরনের আঘাত অগ্রহণযোগ্য এবং এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার যৌথ প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাত পর্যবেক্ষণের জন্য ইউনিফিল মোতায়েন রয়েছে। এই অঞ্চলটি ইসরায়েলি বাহিনী ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রস্থল।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানেরও নিন্দা জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, রোববার রাতে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো আর্টিলারি হামলায় ওই শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে নিহত শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় তার অবদানের জন্য আমরা সর্বোচ্চ সম্মান জানাই।’

