প্রধান খবর

তামাকের বদলে পাটশাকের সিগারেটে ঝুঁকছে গাজাবাসী

দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধ, কঠোর অবরোধ আর লাগামহীন মূল্যস্ফীতির করাল গ্রাসে গাজা উপত্যকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে গাজায় এখন এক অভিনব ও অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। একসময় রান্নার জনপ্রিয় উপাদান হিসেবে পরিচিত পাটশাকের পাতা এখন ব্যবহৃত হচ্ছে সিগারেটের বিকল্প হিসেবে।

গাজা সিটির বিভিন্ন বাজারে বিক্রেতারা এখন ভিন্নধর্মী এক ব্যবসায় মেতে উঠেছেন। তারা শুকনো পাটশাকের পাতা গুঁড়ো করে তার সঙ্গে সামান্য পরিমাণ তরল নিকোটিন মেশাচ্ছেন। এরপর সেই মিশ্রণটি সাধারণ কাগজের টুকরোয় রোল করে তৈরি করছেন এক ধরনের অস্থায়ী ‘পাটশাক সিগারেট’। মূল ধারার তামাকজাত পণ্যের তীব্র সংকট এবং আকাশছোঁয়া দামের কারণে নিরুপায় হয়ে বহু ধূমপায়ী এখন এই ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ধূমপান ছিল কেবলই একটি ব্যক্তিগত অভ্যাসের বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিও এক প্রকার অসম্ভব বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। বাজারে বৈধ ও সাধারণ সিগারেটের সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অল্প কিছু যা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে কয়েক গুণ। ফলে বাধ্য হয়েই সস্তা ও সহজলভ্য এই পাটশাকের সিগারেটের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে তাদের।

তবে চিকিৎসকরা এই প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পাটশাকের শুকনো পাতা পুড়িয়ে ধোঁয়া নেওয়া কোনোভাবেই তামাকের নিরাপদ বিকল্প হতে পারে না। উল্টো এর ফলে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের জটিলতা এবং নানাবিধ অজানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের এমন কড়া সতর্কবার্তার পরও, নিকোটিনের তীব্র চাহিদা মেটানোর শেষ ভরসা হিসেবে অনেকেই এই মরণফাঁদ বেছে নিচ্ছেন।

গাজার সাধারণ বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলছেন, খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের চরম সংকটের পাশাপাশি এখন একটি সাধারণ সিগারেট পাওয়াও তাদের জন্য এক বড় সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে এই ‘পাটশাকের সিগারেট’ এখন আর কেবল একটি বিকল্প ধূমপান পণ্য নয়; বরং এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অবরুদ্ধ ও করুণ বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *