প্রধান খবর

ভিনিসিয়ুসের ৫০তম ম্যাচে মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল ব্রাজিল

আন্তর্জাতিক ফুটবলের ৫০তম ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জাদুকরী গোল। তাতেই এক চরম মহাবিপর্যয় থেকে উদ্ধার পেল সেলেসাওরা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১–১ গোলে ড্র করেছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। প্রথমার্ধের ‘হরর শো’ কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও, আফ্রিকান সিংহদের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়া হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কোর মহারণ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় এবং হাইভোল্টেজ ম্যাচ ছিল এটিই। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই ‘বড় ম্যাচ’ ১–১ গোলে ড্র হওয়ায় রাত জাগা ফুটবলপ্রেমীদের ক্লান্তি হয়তো পুরোপুরি উসুল হয়নি; বিশেষ করে ব্রাজিলের সেলেসাও সমর্থকদের মন কিছুটা উসখুশ করারই কথা।

ম্যাচের শুরু থেকেই মাঝমাঠে মরক্কোর চোখ ধাঁধানো ‘ফ্লুইড ফুটবল’ আর গতির সামনে যেন দিশেহারা ছিলেন কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। মাঝমাঠ আগলে রাখার দায়িত্বে থাকা কাসেমিরোকে পুরো প্রথমার্ধে খুঁজেই পাওয়া যায়নি, আর ডিফেন্সে রজার ইবানিয়াজের নড়বড়ে পারফরম্যান্স মরক্কোর ফরোয়ার্ডদের কাজটা আরও সহজ করে দেয়। ম্যাচের ঠিক ২১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগের সেই খামতির ফায়দা লুটে মরক্কোকে উল্লাসে ভাসান ইসমায়েল সাইবারি। ১–০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মাঠে জয়ের ‘ফেবারিট’ মনে হচ্ছিল কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোকেই।

ঠিক তখনই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দলের এমন মহাবিপর্যয়ে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মরক্কোর বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে দারুণ চতুরতায় কাটিয়ে এক কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান তিনি। ঠিক যেন টিপিক্যাল এক ‘রিয়াল মাদ্রিদ গোল’! নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে এই জাদুকরী গোলেই ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান ভিনি। ১–১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যাওয়ার পর ডাগআউটে মাস্টারস্ট্রোক খেলেন সেলেসাও বস আনচেলত্তি। কাসেমিরো ও ইবানিয়াজকে তুলে মাঠে নামান ফাবিনিও ও দানিলোকে, যা ব্রাজিলকে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।

দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর ‘আটলাসের সিংহরা’ প্রথমার্ধের তুলনায় কিছুটা ম্লান হয়ে পড়লে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল। সেলেসাওরা বেশ কিছু আক্রমণ করলেও মরক্কোর কঠিন ডিফেন্স ভাঙার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। গত চার-পাঁচ বছরে বিশ্ব ফুটবলে ‘বিপ্লব’ ঘটানো মরক্কোও আর কোনো অঘটন ঘটাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১–১ গোলের পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। জয় না আসলেও ভিনিসিয়ুসের পায়ের জাদু আর আনচেলত্তির সময়োপযোগী ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনই আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের মান রক্ষা করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *