প্রধান খবর

পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলা : নারী ও শিশুসহ নিহত ১১

পাকিস্তানের অস্থির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান (ডিআই খান) জেলায় একটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই বিস্ফোরণে আরও অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রদেশের আমান মেলা এলাকার একটি যৌথ সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকিতে এই আত্মঘাতী বা পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। আহত ২০ জনের মধ্যে ১৮ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত দারাজিন্দা স্থানীয় হাসপাতাল ও ডিআই খানের মুফতি মাহমুদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণকবলিত আমান মেলা চেকপোস্টটি মুগল কোট ও দারাজিন্দার সংযোগস্থলে ডিআই খান-কোয়েটা মহাসড়কে অবস্থিত, যা খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমানা সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। বিস্ফোরণের সঠিক প্রকৃতি, তীব্রতা ও কারণ অনুসন্ধান করতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞ দল (BDDS) ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে।

দুর্ঘটনার পর পরই ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স, একটি ফায়ার ফাইটিং ইউনিট ও ২৫ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ওই অঞ্চলে মোবাইল ফোন সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকারী দলের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হয়।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গভর্নর এই হামলাকে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বা পাকিস্তানি তালেবানের একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইতিমধ্যেই এই রক্তক্ষয়ী হামলার দায় স্বীকার করেছে।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী সহিংসতা এক মাসেই প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *