পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং জ্বালানি খাতে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। নতুন এই চুক্তির ফলে পারমাণবিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বেসামরিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হলো।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠানে এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। উপদেষ্টা রেহান আসাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সর্বোচ্চ মানের নিরাপত্তা, সুরক্ষার মানদণ্ড এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ সংক্রান্ত (NPT) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করবে। ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অসংযোজন চুক্তির অনু অনুবর্তী হয়ে উভয় রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকল মেনে চলবে।
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব তৈরি হলো। রূপপুরে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ এগিয়ে চলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি পারমাণবিক প্রযুক্তির আধুনিকায়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এর আগে মে মাসে জ্বালানি খাতের কাঠামোগত উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্য একটি চুক্তি হলেও এটি মূলত পারমাণবিক বিজ্ঞান ও নিরাপত্তার ওপর আলোকপাত করেছে।
আমেরিকান আন্ডার সেক্রেটারি ও বাংলাদেশের উপদেষ্টার যৌথ স্বাক্ষরিত এই স্মারক দুই রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

