রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেলেও নিজে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক নাফিউল ইসলাম জীবন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক। মাদ্রাসায় নিজের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকলেও প্রতি মাসে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ঠিকই তুলে নিচ্ছেন তিনি, আর তার পরিবর্তে ক্লাস করাচ্ছেন আপন মামাকে দিয়ে।
অভিযুক্ত নাফিউল ইসলাম জীবন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন নাফিউল ইসলাম জীবন। তবে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিজে শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ না নিয়ে আসমত আলী নামের নিজের এক আপন মামাকে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে পাঠাচ্ছেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম এই অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে জীবন অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস করানোর অনুমতি প্রার্থনা করেছিলেন। বিধি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও পরিচালনা কমিটি বা স্থানীয় মহলের পক্ষ থেকে কেউ জোরালো বাধা না দেওয়ায় শুরু থেকেই এভাবে অনিয়মিতভাবে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাফিউল ইসলাম জীবন নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পূর্ণ না হওয়া এবং দলীয় ও রাজনৈতিক নানা ব্যস্ততার কারণে তিনি প্রিন্সিপালের সাথে আলোচনা করে বিকল্প ব্যবস্থায় মামাকে দিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন। প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর বিনিময়ে প্রাপ্ত বেতনের অর্ধেক টাকা তিনি তার মামাকে দেন এবং বাকি অর্ধেক নিজে রেখে দেন। এই ব্যবস্থা যে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বিষয়টি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তাও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কোনো আইনগত বা নিয়মতান্ত্রিক সুযোগ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

