ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বাহিনীর নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় খ্যাতনামা বিমান সংস্থা ইত্তিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজ সৌদি আরবের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে তাদের সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। রিয়াদের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আন্তর্জাতিক পরিসরে বড় ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে হুথি বিদ্রোহীরা শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রিয়াদের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কিং খালিদ’ বিমানঘাঁটিতে একযোগে জোরালো হামলা চালানোর দাবি করে। রিয়াদে অবস্থানরত এক প্রভাবশালী পশ্চিমা কর্মকর্তা পুরো শহরজুড়ে কয়েক দফায় বিকট বিস্ফোরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াদের আকাশে তীব্র আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলীর চিত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আবুধাবি থেকে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সমস্ত নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। একই সময়ে দোহাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা কাতার এয়ারওয়েজও সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রিয়াদ ও দাম্মামগামী তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধের এই চরম ও ভয়াবহ বিস্তৃতি বর্তমানে সৌদি আরবের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল অক্ষের উত্তেজনার আবহেই পরিস্থিতি আরও জটলা পাকাচ্ছে।
পরিস্থিতি কেবল স্থল বা আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই; ঠিক একই সময়ে জলপথেও তীব্র উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা একটি বিশালাকার সুপারট্যাংকরে তারা সফল আঘাত হেনেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জলযানে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা, যা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

