বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হলেও সংগৃহীত রক্তের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের কাছ থেকে। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করতে হয় রোগীর স্বজন ও বিকল্প দাতাদের মাধ্যমে। ফলে জরুরি মুহূর্তে রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাঁদের পরিবার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে প্রায় ৯ লাখ ৬১ হাজার ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছা দাতাদের অবদান ছিল মাত্র ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে রক্তদানের উপযুক্ত বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। তাঁদের সামান্য অংশ নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে এলেই সংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
রক্তের অভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন থ্যালাসেমিয়া রোগীরা। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১২০ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার ও প্রসবজনিত জটিলতায়ও নিয়মিত রক্তের চাহিদা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তের সংকট নিরসনে স্বেচ্ছা রক্তদাতা বৃদ্ধি, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা জরুরি। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা, নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম এবং প্রতিটি রক্তকেন্দ্রে মানসম্মত পরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

