ইতিহাসের নির্মমতম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত ঘটনাগুলো যেন কালের গর্ভে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইরান। হিরোশিমা ট্র্যাজেডির মতো মিনাবের নিষ্পাপ শিশুদের নির্মম মৃত্যুর স্মৃতি বিশ্ব দরবারে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নারী ও পরিবারবিষয়ক উপ-রাষ্ট্রপতি জাহরা বেহরুজ-আজার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘মিনাবের রক্তধারা’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই গভীর আশাবাদ ও উদাত্ত আহ্বান ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক এই স্মারক গ্রন্থের উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশটির সরকারের উচ্চপদস্থ শীর্ষ কর্মকর্তা, শহীদ ও যুদ্ধাহত পরিবারের কল্যাণে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আলোচনা চলাকালে উপ-রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, মিনাবের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা কিংবা তা বিশ্ববাসীর নজর থেকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনো অপচেষ্টাকে বরদাশত করা হবে না। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে সমগ্র দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিশ্বশান্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পৃথিবীর অন্য কোথাও যেন কোনো নিষ্পাপ শিশুকে এমন বর্বরোচিত নির্মমতার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সোচ্চার থাকার প্রতি জোর দেন।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ও পীড়িত পরিবারগুলোর অসীম দুঃখ লাঘবে ইরান সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু মানবিক ও পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সরকারি দফতর ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান এবং পুনর্বাসনের কাজ নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। তবে উপ-রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে স্বীকার করেন যে, স্বজনদের অপূরণীয় জীবনক্ষতির তুলনায় সরকারি এই সব প্রচেষ্টা ও সহায়তা অতি সামান্য। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সর্বোচ্চ যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মিনাব ট্র্যাজেডির সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়টি জীবন্ত রাখার জন্য তিনি দেশের সাংস্কৃতিক কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের এগিয়ে আসার বিশেষ আহ্বান জানান। শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক সত্যকে শিল্প ও সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে মিনাবের শহীদ শিশুদের আত্মত্যাগ বিশ্ববাসী কখনো ভুলে না যায়।

