ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত একটি ১০ কিলোমিটার সড়ক দৌড় প্রতিযোগিতায় হিজাব ছাড়াই অংশ নিয়েছেন কয়েকজন নারী। দেশের কঠোর পোশাকবিধি ও আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও জনসমক্ষে অনাবৃত মাথায় নারী প্রতিযোগীদের অংশ নেওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার সকালে তেহরানের ভেলায়াত পার্কে ‘তেহরান ১০কে’ শিরোনামের এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতাটিতে আয়োজকেরা নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক পর্বের ব্যবস্থা করেছিলেন। নারী প্রতিযোগীদের জন্য নির্ধারিত ১০ কিলোমিটারের এই দূরত্বটি দুটি চক্করে শেষ করতে হয়। আয়োজনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে বেশ কয়েকজন নারীকে মাথায় ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ বা হিজাব ছাড়াই দৌড় শেষ করতে দেখা যায়। তবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল নারীই হিজাবহীন ছিলেন না; অনেকেই প্রচলিত আইনি বিধিনিষেধ মেনেই দৌড়ে অংশ নেন।
উক্ত প্রতিযোগিতার নারী বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ইরানের প্রখ্যাত দূরপাল্লার দৌড়বিদ পারিসা আরব, যিনি ৫ হাজার মিটার, ১০ হাজার মিটার ও হাফ ম্যারাথনে দেশটির জাতীয় রেকর্ডের অধিকারী। প্রতিযোগিতা শেষে পারিসা আরব তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৌড়ের শেষ অংশ ও ফিনিশিং লাইন অতিক্রমের ভিডিও প্রকাশ করে জানান যে, দর্শকদের সার্বিক উৎসাহই তাঁকে দৌড়ের কঠিন মুহূর্তগুলো অতিক্রম করতে শক্তি জুগিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে তরুণী মাহসা ‘জিনা’ আমিনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ শীর্ষক ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকেই দেশটিতে প্রকাশ্যে হিজাব না পরার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তেহরানের দৌড় প্রতিযোগিতায় নারীদের অনাবৃত মাথায় অংশ নেওয়ার এই ঘটনাটি ইরানের সামাজিক পরিবর্তনের সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

